আলহামদুলিল্লাহ, সাত বছর পেরিয়ে অষ্টম বছরে পদার্পণ

আজ আমাদের একটি বিশেষ দিন। অজস্র অনুভূতিগুলো শেয়ার করার জন্য মাথার মধ্যে কেবল কিলবিল করছে। কেন জানি মনে হচ্ছে খেই হারিয়ে ফেলছি? না খেই হারালে চলবে না। অনুভূতির ব্যাকরণ খুঁজে না পেলে ও ওরা আমার দিকে বিব্রত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, তবু ও আমাকে আজ লিখতেই হবে কারণ তোমার চোখে আমি এখনো সেই বোকা সহজ সরল মানুষ হিসেবে অবিকল আগের মতই আছি।

তোমাকে নিয়ে লিখতে বসলে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখে ও শেষ করা যাবে না ফাতিহার মা। সাত বছর কিভাবে যে এত দ্রুত চলে গেল তা ভাবলেই মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যাই। সত্যিই তো ভালো সময়গুলো খুব দ্রুত চলে যায়। প্রথম প্রথম তোমায় কিছু লিখতে গেলে সব কিছু কেমন এলোমেলো হয়ে যেত। জীবনের দৌড়ে জীবিকা অন্বেষণ বরাবরই এগিয়ে থাকে। তোমার খুব কাছাকাছি থেকেও আমি বেশ বুঝতে পারি তোমার সাথে কাটানো প্রতিটি ক্ষণ আমার জীবনে এক একটি সুখের অধ্যায়।

অনেক সময় কোন কারণে একটু দূরে গেলেই বুঝি তুমি বিনে থাকাটা মোটে ও সুখের নয়। যতই দূরে থাকি ততই দুঃখের সময় দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়। প্রতিটি সকাল আসে আবার এক রাশ ব্যস্ততা নিয়ে। অনেক সময় জীবিকা এবং অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে আমাদের মেয়ে এবং সংসারের পাশে থেকে তোমায় যে উৎসাহ দেব সে সুযোগটি ও অনেক সময় করে উঠতে পারি না। তুমি যে এত কিছু সামলিয়ে কোন অভিমান না করেই আমাকে এত কিছু খুব সহজ ভাবে করতে দাও, তার জন্য আজীবন তোমার কাছে কৃতজ্ঞ হয়ে থাকবো। মাঝে মাঝে আমি এইজন্যই বলি তোমার মত স্ত্রী পাওয়া সৌভাগ্যের ব্যাপার। মহান সৃষ্টিকর্তা এইজন্যই বোধহয় তোমাকে আমার জন্য কপালের লিখন হিসেবে পাঠিয়েছেন। আমি সত্যিই স্রষ্টার কাছে চির কৃতজ্ঞ।

এই তোমরা মানে নারী জাতিকে বিধাতা অশেষ মমতায় এবং অনেক যত্নে বুনন করেছেন। প্রতিটি দায়িত্বের প্রতি এতখানি দায়িত্ববোধ তোমরা কি করে বজায় রাখো? ভাবতে অবাক লাগে। ছোট বেলায় গ্রামে থাকতে নানী-দাদী কে দেখেছি, পরে দেখেছি মা’কে। আর এখন দেখছি তোমাকে। আমার লেখনীতে যতখানি কৃতজ্ঞতাবোধ ফুটে আসার কথা অতখানি কৃতজ্ঞতাবোধ আমি ফুটিয়ে তুলতে পারিনা যা তোমাদের উপযুক্ত হয়।

তবু ও আমি চেষ্টা করে যাই তোমাকে একটু উপমার সাগরে ভাসাতে। আমি মাঝে মাঝে বলি পৃথিবীর বুকে আজ যত ফুল ফুটেছে এবং আগামীতে যত ফুল ফুটবে, সবটুকু দিয়েই তোমাকে আমাদের সপ্তম বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তোমার জন্য যতটা নীলপদ্ম নিয়ে আসলে তুমি খুশি হতে ঠিক এই জগৎ সংসার তন্ন তন্ন করে না হয় খুঁজে নিয়ে আসতাম। জানি না আমি ট্রয়ের মত হাজার হাজার নগরী ধ্বংস করতে পারতাম কিনা কিন্তু তোমার একটুখানি খুশি এবং সুখের জন্য আমি ওই বৃথা চেষ্টাটুকু না হয় করেই যেতাম। বীরপুরুষরা হয়ত অন্যরকম তবু ও আমি তোমার ভাবনায় এমন একজন বীরপুরুষ হয়ে থাকতে চাইতাম।

আমি জানি এসব পড়ে এবং এসব শুনে তুমি হেসে ফেলো আর এখনো আমি একজন বোকা মানুষ বলে স্বান্তনা দাও আমায় । ভালবাসা কিংবা মমতার গভীরতায় তুমি বরাবর অনেক এগিয়ে। আমি পাগলের মতই ভালবাসি ভালবাসি বলে যা বোঝাতে চাই তার থেকে অনেক বেশী তুমি বুঝিয়ে দাও তোমার চোখের তারায় কিংবা তোমার অগাধ প্রশ্রয়ে।

আমি সত্যি ভাগ্যবান। আমাদের ফুটফুটে মেয়ের দিকে তাকালে ভেসে ওঠে তোমার গেল বছরের রাতজাগা এবং কষ্ট জড়ানো দিনগুলি। কতখানি কষ্ট আর সাবধানতায় আমাদের মাঝে এনে দিয়েছো আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার ফাতিহা মনিকে। তোমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। জানি এ লাইন পড়ে মুচকি হাসবে তুমি। তুমি হাসলে আমার সারা জীবনটা কেমন উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। মনে মনে প্রার্থণা করি, চোখে চোখ – হাতে হাত – অন্তরে অন্তর – জনম জনম।

এখানেই শেষ করব। আজ আমাদের বিবাহ বার্ষিকী। অনুভবে তুমি মিশে আছো সারাক্ষন। মাঝে মাঝে একটু এদিক থেকে ওদিক গেলেই চোখ বুজে দেখে নিই তোমাকে। প্রিয় মানুষটার ছবি ভাসছে, ভাবতেই অন্যরকম লাগে।

তুমি ভাল থেকো, তোমরা ভাল থেকো। আমি ভাল আছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থণা করি, এই জীবনে যেমন করে তুমি পাশে আছো, তেমনি অনন্ত জীবনে ও তোমাকে পাশে চাই। ধন্যবাদ এই ভিনদেশে আমার জীবনের সবচেয়ে গভীর দুঃখগুলো তোমার ভালবাসা দিয়ে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্যে। মহান রব তোমার এবং ফাতিহা মনির মঙ্গল করুন।

শুভ হোক আমাদের সপ্তম বিবাহবার্ষিকী!

Leave a Reply