ইচ্ছে

আমার খুব ইচ্ছে করে
কুঁড়েঘরে বাস করা কোন এক জননীর কষ্টগুলোকে নিজের করে নিতে
আমার খুব ইচ্ছে করে
প্রতিটি দুঃখের গল্পে রঙিন স্বপ্নের ছোঁয়া দিয়ে সুখের গল্প বুনতে
আমার খুব ইচ্ছে করে
ঘাসফুলের উপর শুয়ে নীল আকাশে চোখ রেখে অজানায় মন হারাতে
আমার খুব ইচ্ছে করে
সবকিছু ছেড়ে একদিন হিমালয়ের উঁচু স্থানে গিয়ে নির্জনে সময় কাটাতে
আমার খুব ইচ্ছে করে
পৃথিবীর সমস্ত মন্দ মানুষগুলোকে ভালো মানুষ হিসেবে দেখতে
আমার খুব ইচ্ছে করে
মানবতার স্লোগানে স্লোগানে আমাদের চারপাশ ভালোবাসা দিয়ে পূর্ণতা দিতে
আমার খুব ইচ্ছে করে
খেটে খাওয়া মানুষগুলোর সাথে একটু সময় দিয়ে তাদের হাসি আনন্দে শামিল হতে
আমার খুব ইচ্ছে করে
আদর, মায়া এবং ভালোবাসার মিছিল দিয়ে সবার ঘর আলোকিত করে তুলতে
আমার খুব ইচ্ছে করে
স্বাধীন দেশের মত স্বাধীনতা নিয়ে পথে প্রান্তরে ঘুরে বেড়াতে
আমার খুব ইচ্ছে করে দেখতে
স্রষ্টা যেন প্রতিটি মানুষের নিত্য দিনের চাওয়া পাওয়া গুলোকে মুহূর্তেই মিলিয়ে দেন
আমার খুব ইচ্ছে করে
কারো শত্রু না, মিত্র হয়েই পাশাপাশি পথ চলতে
আমার খুব ইচ্ছে করে
সৃষ্টিকর্তার ধর্মীয় অনুশাসনগুলোকে প্রতি পদে পদে মেনে চলতে
আমার খুব ইচ্ছে করে
পৃথিবীর সব প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভাই বোনগুলোর সাথে একই আঙিনায় বসে খেলতে
আমার খুব ইচ্ছে করে
পৃথিবীর সব সমস্যাগুলোকে নিমিষেই সমাধান করে দিতে
যেহেতু এগুলো সবই আমার ইচ্ছে
সেহেতু ইচ্ছেরা কতটুকু বাস্তবতার দ্বারপ্রান্তে আসতে পারে তা আমার জানা নেই
তবে ইচ্ছে গুলোকে নিজের ঘর থেকেই শুরু করে পাড়ায়, মহল্লায় এবং ধীরে ধীরে গন্ডি পেরিয়ে যেতে হবে
এভাবেই হয়তো ধীরে ধীরে সব গুলো ইচ্ছের পূর্ণতা পাবে
হয়তো এইসব ইচ্ছে পূরণের স্বপ্ন দেখতে দেখতে একদিন ওপারে পাড়ি দিতে হবে
যদি ও ওপারে যাওয়ার ইচ্ছে কারোরই থাকে না কিন্তু এই ইচ্ছেটাই সবার ভাগ্যে কমন পড়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত এই ইচ্ছের ও না চাইতে সবার জীবনে এসে ধরা দেয়
তাই মাঝে মাঝে আমি ইচ্ছেদের মিছিলে আনমনে হারিয়ে যাই
জীবনের নৈস্বর্গিক সৌন্ধর্য্যগুলোকে নিজের মনে করে এক মুহূর্তের জন্য হলে ও ডুবতে

Leave a Reply