ভ্রমণের গল্প: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া

এই ভ্রমণে যুক্ত হয়েছিল প্রায় দশ বছরের ও বেশি সম্পর্কের বন্ধু বান্ধবেরা এবং আরো ছিল আমাদের সাথে একগুচ্ছ কোমল হৃদয়ের আগামী প্রজন্ম। একটি ভ্রমণ কে সাফল্য মন্ডিত করতে লাগে অনেক প্ল্যান বা পরিকল্পনা। শুধুমাত্র খাবারের আয়োজনের জন্য আমাদেরকে তিন থেকে চারটি কনফারেন্স বা মিটিং কল করতে হয়েছিল।

জীবনে অনেক লক্ষ্যকে আমরা পরিপূর্ণ করি তবে তার পিছনে থাকে শ্রম এবং সাধনা। ঠিক তেমনি এই ভ্রমণের গল্পে ও কোথাও একটু ও ঘাটতি ছিল না। বিকালে অফিস শেষ করে যাত্রা করলাম অকল্যান্ড, ম্যারিল্যান্ড। এই জায়গাটায় ছিল আমাদের তিন রাতের ভাড়া বাসা। বাসা থেকে দূরত্ব ছিল প্রায় ১৫৫ মাইলের মত। সমস্ত রাস্তা আমি, ফারিয়া এবং ফাতিহা উপভোগ করতে করতে যাচ্ছি।কি যে অদ্ভুত এক আনন্দ লাগছে তা বলে বুঝানো যাবে না!

তিন ঘন্টার রাস্তা আমরা ব্রেক নিয়ে মোটামুটি সাড়ে চার ঘন্টা লাগিয়ে পৌঁছালাম। ততক্ষনে কেউ এসে পৌঁছায়নি।পৌঁছাবে কি করে কারণ আমিই ছিলাম মোটামুটি নিকটতম দূরত্বে, আর বাকিরা কেউ নিউ ইয়র্ক এবং কেউ নর্থ ক্যারোলিনা থেকে আগত। যাই হোক চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। হঠাৎ গাড়ি থেকেই নামতে সেন্সর লাইটটা জ্বলে উঠলো। যাক মোটামুটি গাড়ি থেকে নেমেই বাসায় ঢুকলাম। ফ্রেশ হয়ে বাকিদের জন্য বসে আছি। এইদিকে ফাতিহা খুবই উপভোগ করছে বাড়ির ভিতরে খোলা জায়গা পেয়ে।

কিছুক্ষন পর একে একে সবাই এসে হাজির। মনে হচ্ছিলো বিয়ে বাড়িতে মেহমান এসেছে।কি যে হৈ চৈ, গল্প গুজবে চারপাশ আনন্দে মাতোয়ারা। ভ্রমণে আসার আগেই আমাদের এক্টিভিটিজ গুলো প্ল্যান করা ছিল।

সবাই ক্লান্তি শেষে রেস্ট নিয়ে ঘুম দিয়ে উঠার পর ব্যস্ত সকালের নাস্তায়। এই বাড়ির সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিস ছিল বাড়ির দুই সাইডে বিশাল বারান্দা। বারান্দা থেকে সামনে তাকালেই কি যে এক নান্দনিক সৌন্ধর্য্য, জাস্ট ওয়াও টাইপের। এর পাশেই ঘোড়ার ফার্ম, মুরগির ফার্ম। একটু সমানে তাকালেই পাহাড় এবং পাহাড় ছুঁয়ে আছে সমস্ত উইন্ডমিলগুলো।

যাই হোক সবাই মিলে ফুটবল খেলার আয়োজন করলো। কি বলবো আমরা ৫ মিনিট দৌঁড় দিয়ে ৪৫ মিনিটের ও বেশি ব্রেক নিয়েছি। সবারই শরীরের অবস্থা একই দুই একজন ছাড়া। খেলাধুলা শেষে দুপুরের খাবারের আয়োজন শেষে আমরা সোয়ালো স্টেট পার্কে ওয়াটার ফলস দেখতে সবাই ছুটে গিয়েছিলাম।

সন্ধ্যে হলেই বাসা এসে ঝাল মুড়ি, ছোলা এবং আদা চা ছিল গল্পের মধ্যমনি। এদিকে একেকটা পরিবার একেকটা খাবার ফ্রোজেন করে নিয়ে আসাতে রান্নার কোন ঝামেলা হয় নি। যাক রাতে সবাই একই টেবিলে বসে খাবার খেলাম, খাওয়া শেষে জোকস বলে হাসতে হাসতে খাবার হজম করে রাত দেড়টায় ঘুমোতে গেলাম।

পরের দিন সকালে উঠে সবাই নাস্তা করে ডিপ ক্রিক লেকের উদ্দেশ্যে ছুটলাম। ওখানে গিয়ে বোট রাইডিং এর জন্য আমরা তিনটা বোট রেন্ট করেছিলাম। প্রতি বোটে ১২৬ ডলার করে মূল্য পড়েছিল ঘন্টায়। এই বোট রাইডিং ছিল জীবনের অন্যতম অভিজ্ঞতা। মৃদু বাতাসে আমরা যেন লেকের পানির উপরে ভেসে যাচ্ছি। চারিদিকে প্রকৃতির কি যে অপরূপ লীলাখেলা। বোট রাইড শেষে আমরা বিকেলে বাসায় এসে সন্ধ্যে বেলায় খড়ের উপর বসে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে বাসায় ফিরলাম।

বাচ্চারা অনেক উপভোগ করেছে ভ্রমণটি। সেই সাথে এই ভ্রমণ আমাদের জন্য ছিল অনেক আনন্দের। প্রতি বছরের এই ভ্রমণগুলো নিয়ে আসুক বন্ধুদের মিলনমেলা, সেই প্রত্যাশা।

ছবি: নিজের হাতে তোলা

Leave a Reply