সামর্থ্য অনুযায়ী নিজের বেস্টটা করা উচিত নয় কি?

প্রত্যেকটা মানুষের নিজস্ব কিছু স্বপ্ন থাকে, স্বপ্ন গুলো যখন বাস্তবের সীমানায় এসে ঠেকে, ঠিক তখনি মনে হয় জীবনের সব ফেলে আসা ভুলে আজকের ওই এক দিনকে অতিমাত্রায় সবার মত আলোকিত করে তুলি। প্রশ্ন হচ্ছে, সবাই কি একই ছাতার নিচে নিজের স্বপ্নগুলো প্রতিফলন ঘটাতে পারে বা সবার কি একই পরিমান সামর্থ্য আছে? যা মানুষ বাকিদের মত করে দেখাতে চায়। সেই ধরনের কিছু কথা স্বরণ করে লিখতে বসলাম, হাজারো উদাহরণ মাথায় কাজ করছে কিন্তু প্রসঙ্গক্রমে আমার মূল পয়েন্ট টা নিচ্ছি “বিয়ে” একটা উদহারণ হিসেবে, যাক এবার আসি মূল কথায়।

আমার চোখে দেখা কিছু বাস্তব চিত্র থেকে নেয়া, যেটা আমাদের সমাজের আজকাল একটা শো আপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেখুন আজকাল যখন বিয়ে বা শাদী হয়, তখন প্রত্যেকটা ছেলে বা মেয়ের মাঝে একটাই প্রবণতা কাজ করে, যখন তার আশে পাশের মানুষকে দেখে, কেউ বিয়ে করছে খুব জাকজমক ভাবে। হয়ত ওই ব্যক্তির সামর্থ্য অনেক, তাই তার প্রদর্শনীটা ও চরম, কিন্তু তাই বলে যে ব্যক্তির সংসার চলে প্রতিদিনের উপর ভর করে, তার কি সাঝে ওই বিত্তবানের মত প্রদর্শনী করার। স্বপ্ন দেখা ভালো, কিন্তু যে স্বপ্ন আপনাকে বা আমাকে আমাদের পরিধির বাহিরে চলে গিয়ে ধার করে এইসব জিনিস শো আপ করি, তাহলে বিয়ের পর এই আপনি বা আমাকেই বেশি পচকাতে হবে। আশা করি আপনারা বুঝেছেন আমি কি বলতে চাচ্ছি। দেখেন না মানুষের কত ধরনের বিচিত্র স্বভাব। অমুকে এই ভাবে বিয়ে করছে, আমাকে ও ওই ভাবে বিয়ে করতে হবে। অমুকে ওই পার্লারে সাজছে, আমাকে ওই পার্লারে সাজতে হবে। অমুকে বিয়েতে কত কি খাওয়াইছে, আমকে ও ওগুলো খাওয়াতে হবে। অমুকের শ্বশুর বাড়ি থেকে কত কি পাঠাইছে, আমি ও যেন সব কিছু পাই। অমুকে বিয়েতে কত শত গিফট পাইছে, আরে আমার ও অনেক গুলান গিফট পাওয়া লাগবো। অমুকে অত টাকা দিয়ে ডি.জে আনছে, আমার ও ডি.জে চাই, তা না হলে বিয়ে হবে না, আরে ভাই ও বোনেরা থামেন।

এবার নিজের পিছনে ফিরে তাকান, একবার নিজেকে জিজ্ঞেস করুন আপনি কে? আপনার সংসার চলে কিভাবে? আপনি যে স্বপ্ন দেখছেন তা কি পূরণ না হলে বিয়ে আটকে থাকবে? আমি হয়ত জানি আপনাদের সবার স্বপ্ন অনেক বড়, কিন্তু মাঝে মাঝে স্বপ্নের সাথে লুকোচুরি ও খেলতে হয়। আপনার যতটুকু আছে তা দিয়েই আপনার বিয়ে বা আনুসাঙ্গিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ করুন, যাদেরকে দেখানোর জন্য আপনি বা আমি এসব করতেছেন, বিয়ের পর তারা এসে আপনাকে বা আমাকে এক পয়সা ও দিবে না আপনি যে ঋণ বা ধার নিয়েছেন তা পরিশোধ করতে। আমাদের সমাজে অনেক হতদরিদ্র লোক বসবাস করে, তারা কি তাদের ছেলে মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছে না? হ্যা অবশ্যই দিচ্ছে, বড়জোর সমাজের ১০-১৫ জন মানুষ মিলে যা তার সামর্থ্যে আছে তাই সে করছে, আমি বিশ্বাস করি মহান আল্লাহ অবশ্যই তাদের উপর অনেক রহমত দিয়েছেন। যে বিয়েতে আপনি আমি লক্ষ লক্ষ বা কোটি কোটি টাকা খরচ করে একটি সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছি, সেখানে একজন দরিদ্র ছেলে বা মেয়ে ও একই কালিমা পরে সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে। যে সুখ কোটি টাকার ঘরে শুয়ে হয়তো আপনার বা আমার মিলছে, ঠিক একই সুখ কুড়েঘরে ও মিলছে। নিজের যা আছে তা থেকে কখনো অতিরিক্ত করতে যাবেন না, পরে আপনাকেই তার মূল্য দিতে হবে। তাই আসুন, এখন থেকে ও ঐটা করছে, আমাকে ও করতে হবে, ও এইভাবে চলছে, আমাকেও চলতে হবে, এইসব জিনিস ত্যাগ করুন। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু পারবেন ঠিক ততটুকুতেই সন্তুষ্ট থাকুন, মহান আল্লাহ ও তখন আপনার উপর বরকত দিবেন। মহান রাব্বুল আল আমিন সবাইকে এই ক্ষুদ্র জিনিসটি উপলব্ধি করার তৌফিক দিক, আমিন।

 

Leave a Reply